ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩২:০০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
২০ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা, চলবে ২৫ দিন ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা, চলবে ২৫ দিন বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকেট মিলল কি না জানা যাবে আজ ববিতাসহ দশ বিশিষ্ট ব্যক্তি পাচ্ছেন একুশে পদক দেশে এসেছে ৩ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট আচরণবিধি লঙ্ঘন: চাঁ.গঞ্জে দুইটি তোরণ ভেঙে দিল প্রশাসন ভোটের দিন মেট্রোরেল চলবে

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন সেই রুমা 

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০১ পিএম, ৮ জুলাই ২০২২ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অসহায় রুমা আক্তারের খোঁজখবর নিয়েছেন জেলার প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার খোঁজ নিতে যান জেলার প্রশাসক।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফ আহমেদ রাসেল, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন প্রমুখ।

এর আগে নারায়ণপুর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারের দেওয়া সন্তানদের নিয়ে নতুন ঘরে উঠেন রুমা আক্তার। এছাড়া এক বছর রুমাকে প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে দেবে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও রুমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তাকে চাল ও টাকা দেওয়া হয়েছে।

অসহায় রুমা আক্তারকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার ভাগ্য বদলানো শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে রুমাকে বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম সহযোগিতাও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকির নজরে এলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে।

রুমা আক্তার বলেন, ভালোভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা চিন্তা করে মোল্লার (দোকানির প্রচলিত নাম) কাছ থেকে চা, বিস্কুট, কেক খেয়েছি। প্রয়োজনে টাকা নিয়েছি। তখন মোল্লা আমাকে বলতো বাচ্চা হলে যেন দিয়ে দেই। ওনি কাকে যেন বাচ্চা দিয়ে দেবেন। আমি না করতাম। টাকা দিয়ে দেবো বলতাম। আমার বাচ্চা জন্ম হওয়ার সময় মোল্লা কিছু টাকা দেন। এখন তিনি একটা বাচ্চা নিয়ে যেতে চান। আমি আমার বাচ্চা কাউকে দেবো না।

ভোলার লালমোহন উপজেলায় রুমা আক্তারের জন্ম। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। সৎ মায়ের অত্যাচারে ছোট বেলায় বাড়ি থেকে বের হওয়া। বেড়ে ওঠা এখানে সেখানে। কয়েক বছর আগে বিয়ে হয় হবিগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে। স্বামীকে নিয়ে থাকতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। কয়েক মাস হলো বড় সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী আরেকজনকে বিয়ে করে অন্য কোথাও চলে গেছেন। রুমা জানেন না তার স্বামী কোথায়।

পৌর শহরের খড়মপুরে দিনমজুর ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে রুমার বিয়ে হয়। এক কন্যাসন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিলো রুমার সংসার। দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের পর প্রায় ছয়-সাত মাস আগে কন্যাকে নিয়ে চলে যান তার স্বামী। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে রুমার। ভাড়া বাসা ছেড়ে আশ্রয় নেন আখাউড়া রেলস্টেশনে। অন্যের কাছে হাত পেতে চলতো পেট। সুমি আক্তার নামে এক নারীকে মা ডাকতেন। সেই নারী ২৮ জুন রাত ১১টার দিকে রুমাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

সেখানেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুই ছেলে সন্তানের জন্ম দেন রুমা আক্তার। সন্তানদের নাম রাখেন হাসান ও হোসেন। তবে সন্তানদেরদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন রুমা। নিজে এখানে-সেখানে বেড়ে উঠলেও ছেলে সন্তানদের কীভাবে লালন-পালন করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকির নজরে আসে। জেলা প্রশাসন ঐ নারীর দায়িত্ব নিয়েছে। তাকে উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। তাকে সুবিধাভোগীর আওতায় এনে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আত্মনির্ভরশীলতার জন্য রুমাকে এ সময়ে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি যেন পিছিয়ে না পড়েন, সেজন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন ও আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। ঐ নারী ও তার সন্তানের নিয়মিত খোঁজও রাখা হচ্ছে। দোকানির পাওনা বাবদ সাত হাজার টাকা জেলা প্রশাসন থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।